শনিবার, ১৬ জানুয়ারী ২০২১, ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন

পুঁজিবাজারে দুঃসংবাদ,চলে যাচ্ছে বিদেশিরা!

জার্নালআই২৪ ডেস্ক :
  • হালনাগাদ সময় : বুধবার, ৬ নভেম্বর, ২০১৯
  • ২২৩ বার

জার্নালআই২৪ ডেস্ক : পুঁজিবাজারে আসছে দুঃসংবাদ । মন্দা পুঁজিবাজারে নতুন আতঙ্ক হিসেবে যোগ হয়েছে বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি। তারা শেয়ার কেনার চেয়ে বিক্রি করছেন বেশি। বিদেশিদের পুঁজিবাজার ছেড়ে যাওয়াকে ভালো চোখে দেখছেন না বাজারসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একদিকে পুঁজিবাজারে তারল্য সমস্যা, অন্যদিকে পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানির তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিদেশিরাও নতুন বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছেন না; যার প্রভাব পড়ছে সার্বিক পুঁজিবাজারে। চলতি বছরের মার্চ থেকেই বিদেশিদের শেয়ার বিক্রি ছিল বেশি। সর্বশেষ অক্টোবরেও সেই ধারা অব্যাহত ছিল।

গত আট মাসে বিদেশিরা ২ হাজার ২২৩ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কিনেছেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৩ হাজার ১ কোটি টাকার। সে হিসাবে ক্রয়ের চেয়ে ৭৭৮ কোটি টাকা বা ৩৫ শতাংশ বেশি বিক্রি করা হয়েছে। গত অক্টোবর মাসে বিদেশিরা ২৩২ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কিনেছেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছেন ৩২৯ কোটি টাকা। এ হিসাবে ক্রয়ের চেয়ে ৯৭ কোটি টাকা বা ৪২ শতাংশ বেশি বিক্রি করা হয়েছে। আগের মাস বা সেপ্টেম্বরে বিদেশিরা ২৫৮ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কিনেছিলেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছিলেন ৩১৮ কোটি টাকার। এ হিসাবে ক্রয়ের চেয়ে ৬০ কোটি টাকা বা ২৩ শতাংশ বেশি বিক্রি করা হয়েছিল। আগস্ট মাসে বিদেশিরা ১৭৭ কোটি টাকার শেয়ার ও ইউনিট কিনেছিলেন। এর বিপরীতে বিক্রি করেছিলেন ২৭৯ কোটি টাকার। এ হিসাবে ক্রয়ের চেয়ে ১০২ কোটি টাকা বা ৫৮ শতাংশ বেশি বিক্রি করা হয়েছিল।

বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা মূলত ফান্ডের মাধ্যমে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করে থাকেন। বিনিয়োগের পুরো বিষয়টি নির্ভর করে বাজারের সার্বিক অবস্থার ওপর।

বাজার বিশ্লেষক দেবব্রত কুমার সরকার বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে অব্যাহত পতনের মধ্যে দিয়ে অতিবাহিত হচ্ছে। এখানে সাধারণ বিনিয়োগকারীরাই বিনিয়োগ নিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন; সেখানে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ওপর এর প্রভাব পড়বে এটাই স্বাভাবিক। তিনি বলেন, পুঁজিবাজারে যে কয়টি বহুজাতিক বা যৌথ মূলধনী কোম্পানি আছে, সেগুলোর অবস্থা বর্তমানে করুণ। এমন অনেক কোম্পানি আছে, সেগুলোর শেয়ারের দর একসময় ছিল ৫ হাজার টাকা, এখন তা লেনদেন হচ্ছে ১ হাজার টাকায়। মূলত পুঁজিবাজারে ভালো কোম্পানি তালিকাভুক্ত না হওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তালিকাভুক্ত পুরনো কোম্পানিগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগে আগ্রহী হচ্ছে না। ফলে একদিনে নতুন বিনিয়োগ হচ্ছে না, অন্যদিকে বিদেশিরাও তাদের শেয়ার বিক্রি করে বাজার ছাড়ছেন।

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১৬টি বহুজাতিক ও যৌথ মূলধনী কোম্পানি রয়েছে। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট, বার্জার পেইন্টস, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, ম্যারিকো বাংলাদেশ, বাটা সু, গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন। এ ছাড়া লিন্ডে বিডি, লঙ্কাবাংলা ফিন্যান্স, সিঙ্গার বাংলাদেশ, রেকিট বেনকিউজার, ফু-ওয়াং ফুড, ফু-ওয়াং সিরামিক এবং সিনোবাংলা ইন্ডাস্ট্রিজ এবং লাফার্জ সুরমা সিমেন্ট। এসব বহুজাতিক ও যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলোর বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানির লিমিটেডের সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বিরাজ করছে। কোম্পানিটি থেকে ক্রমাগত কমছে বিদেশিদের অংশীদার। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কোম্পানিটিতে বিদেশি বিনিয়োকারীদের অংশ ছিল ১৬ দশমিক ৩৯ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা কমে এসেছে ১৪ দশমিক ৪৭ শতাংশে। আর সেপ্টেম্বর শেষে বর্তমানে আছে ১৪ দশমিক ৩১ শতাংশ। এর প্রভাবে ক্রমেই কমছে কোম্পানির শেয়ারের দর। এক বছর আগেও সেখানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর ছিল ৫ হাজার টাকা। সর্বশেষ কোম্পানিটি ৪০০ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ প্রদানের পর শেয়ার প্রতি সমন্বয় দর এসে দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০ টাকায়। বর্তমানে কোম্পানির শেয়ার প্রতি দর ১ হাজার টাকা।

 

জাআই/ডেস্ক/আরএফ

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরো খবর

ফেসবুকে আমরা

© All rights reserved © 2019 journaleye24
Theme Download From journaleye24.com
themesba-lates1749691102